শীত মৌসুমে সূর্যের আলো কমে যাওয়ায় ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির ঝুঁকি বেড়ে যায়। অথচ শরীরের হাড়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও সামগ্রিক সুস্থতার জন্য এই ভিটামিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শীতকালে কখন এবং কতক্ষণ রোদে বসলে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পাওয়া যায়—তা জানা জরুরি।
শীতকালে মুখ, বাহু বা পায়ের মতো খোলা অংশ ২০ থেকে ৪০ মিনিট সরাসরি সূর্যালোকের সংস্পর্শে রাখলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি উৎপাদন করতে পারে। তবে এ সময়কাল ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে, কারণ শীতকালে সূর্যের UVB রশ্মির তীব্রতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সূর্যের আলো ভিটামিন ডি তৈরির জন্য সবচেয়ে কার্যকর। এ সময় সূর্যের অবস্থান তুলনামূলকভাবে উঁচু থাকে এবং UVB রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে। সকাল早 বা বিকেলের দিকে রোদে UVB রশ্মির তীব্রতা কম থাকায় ভিটামিন ডি উৎপাদনও কম হয়।
শীতকালে পৃথিবীর কৌণিক অবস্থানের কারণে উত্তর গোলার্ধে সূর্যের রশ্মি কম তীব্র হয়। পাশাপাশি মেঘলা আবহাওয়া, বায়ুদূষণ এবং মোটা শীতের পোশাক শরীরে সূর্যের আলো পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করে। যারা দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকেন, তাদের ভিটামিন ডি ঘাটতির ঝুঁকি আরও বেশি।
গবেষণায় দেখা গেছে, ত্বকের রঙ ভিটামিন ডি উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফর্সা ত্বকের মানুষের জন্য ১৫–২০ মিনিট রোদে থাকাই যথেষ্ট হতে পারে। তবে মাঝারি বা গাঢ় ত্বকের ক্ষেত্রে মেলানিন UV রশ্মি শোষণ করে নেওয়ায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত রোদে থাকতে হতে পারে।
শীতকালে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণে খাদ্যতালিকায় ডিমের কুসুম, ফর্টিফাইড দুধ, সামুদ্রিক মাছ, মাশরুমসহ ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। যাদের শরীরে গুরুতর ঘাটতি রয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ডি পরিপূরক গ্রহণ করা যেতে পারে।