আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কয়েক মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অবসান ঘটাতে দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, চুক্তির কাঠামো ও চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এটি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা পাকিস্তান বর্তমানে সম্ভাব্য ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শেহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা একটি শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি।” তিনি আলোচনায় অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ধন্যবাদ জানান এবং আঞ্চলিক সহযোগী দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সম্ভাব্য এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও শান্তির ভিত্তি তৈরি করবে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে চলমান সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের ওপর কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পৃথক আলোচনার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
তবে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের মতে, উভয় পক্ষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের ঘোষণা এখনো আসেনি।
এর আগে শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির চূড়ান্ত পাঠে সম্মতি হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামাবাদ উভয় পক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।
কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।