জেলা প্রতিনিধি:
জাতীয় বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিরোধী দলের মূল উদ্দেশ্য জনগণের কল্যাণ নয়, বরং দেশে অশান্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা। তিনি দাবি করেন, জনগণের জন্য সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রণীত বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো উপেক্ষা করে বিরোধী দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমালোচনা করছে।
শনিবার কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে মদ ও সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “মানুষের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বাড়ানো হলেও বিরোধী দল সেটিরও সমালোচনা করছে। এতে তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে গেছে। জনগণ বুঝতে পারছে তারা দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় না, বরং বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়।”
‘করবো কাজ, গড়ব দেশ’—এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সকালে নিজ হাতে মাটি কেটে পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষি উৎপাদন, সেচব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্য ঘোষিত বাজেটে কৃষি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে এবং এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ আড়াই হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণে সরকার স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় তিনি আরও জানান, হৃদরোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসের প্রয়োজনীয় উপকরণ ও ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা ও সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সফর শেষে রাতেই তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, পাতলী খাল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত একটি ঐতিহাসিক প্রকল্প। ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই খালের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর সেই খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান।