সংসদ প্রতিবেদক:
দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি ও বিরোধী দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে কোনো বৈষম্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি সরকারের প্রতি গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে তা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনের বৈঠকে সম্পূরক প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মতো সংরক্ষিত নারী সদস্যদেরও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধান বা আইনে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক আসন না থাকলেও রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বাস্তবতার ভিত্তিতে তাদের কাজের জন্য বিভিন্ন এলাকা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। এসব এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায় তারা ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, ‘উন্নয়নের বিষয়ে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করেই আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকলে জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’
পরে সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সরকারের উন্নয়ন দর্শন এবং বিরোধী দলের প্রতি সহযোগিতামূলক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি জানান, কয়েকদিন আগে স্পিকারের নেতৃত্বে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত একটি বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেছিলেন যে ঈদের আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু সহায়তা বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য পাননি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ওই বৈঠক থেকে বেরিয়েই এলজিইডি মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছি, যদি কোনো বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সেই সহায়তা না পেয়ে থাকেন, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সম-উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে বিরোধীদলীয় সদস্যদের এলাকাতেও সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।’
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরও বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার বন্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। কাজেই যদি গঠনমূলক কোনো সমালোচনা থাকে, অবশ্যই সেটি আমরা গ্রহণ করব এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।’
সংসদে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যকে রাজনৈতিক সহনশীলতা, অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন এবং বিরোধী দলের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখার বার্তা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, উন্নয়ন কার্যক্রমে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হলে স্থানীয় পর্যায়ে সেবার মান ও জনআস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।