শীত এলেই অনেকের নাক বন্ধ, গলা ব্যথা বা হালকা কাশি দেখা দেয়। বেশিরভাগ মানুষ এগুলোকে মৌসুমি সমস্যা ভেবে গুরুত্ব দেন না। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালের কিছু সাধারণ সংক্রমণ সময়মতো চিকিৎসা না করলে ধীরে ধীরে জটিল ও গুরুতর রোগে রূপ নিতে পারে। তাই লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
সাধারণ সর্দি থেকেও হতে পারে জটিলতা
শীতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সর্দি-কাশি। অনেক ক্ষেত্রে এটি নিজে থেকেই সেরে যায়, কিন্তু নাক বন্ধ থাকা, মুখে চাপ বা ব্যথা সাইনাস সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে। চিকিৎসা না নিলে শিশুদের কানের সংক্রমণ বা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের হাঁপানির সমস্যা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
গলা ব্যথা কখন সতর্কতার কারণ
গলা ব্যথাকে অনেকেই ঠান্ডা লাগা বা বেশি কথা বলার ফল মনে করেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এটি স্ট্রেপ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। চিকিৎসা না হলে জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা এমনকি বাতজ্বরের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন গলা ব্যথা, জ্বর বা গিলতে কষ্ট হলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।
ফ্লু শুধু সাধারণ অসুখ নয়
ইনফ্লুয়েঞ্জা সাধারণ ঠান্ডার মতো শুরু হলেও দ্রুত গুরুতর আকার নিতে পারে। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট বা পানিশূন্যতার ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে।
হালকা কাশি থেকেও হতে পারে বুকের সংক্রমণ
শীতকালে দীর্ঘদিনের কাশি অনেক সময় ব্রঙ্কাইটিস বা ফুসফুসের সংক্রমণের লক্ষণ। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও চিকিৎসা না হলে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। ঠান্ডা বাতাস শ্বাসনালীকে সংবেদনশীল করে তোলে, যা ফুসফুসকে দুর্বল করে।
শীতেও ইউটিআই-এর ঝুঁকি
শীতকালে কম পানি পান করার কারণে মূত্রনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া উপেক্ষা করলে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, সঙ্গে জ্বর ও পিঠে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
শুষ্ক ত্বক থেকে সংক্রমণ
শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক ফেটে যেতে পারে, যা ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের সংক্রমণের পথ তৈরি করে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ছোট ত্বকের সমস্যাও দ্রুত গুরুতর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শীতকালের যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক উপসর্গকে হালকাভাবে না নিয়ে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই নিরাপদ।