থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভুগলে ক্লান্তি, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, মনোযোগের ঘাটতি ও সার্বিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ অবশ্যই জরুরি। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
কিছু নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। হঠাৎ কোনো পরিবর্তন নয়, বরং নিয়মিত ও ধারাবাহিকভাবে এসব খাবার খাদ্যতালিকায় যুক্ত করলে ধীরে ধীরে উপকার পাওয়া যায়। থাইরয়েডের সুস্থতা বজায় রাখতে যেসব খাবার গুরুত্বপূর্ণ—
১. সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার
সেলেনিয়াম থাইরয়েডের কার্যকারিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। এটি থাইরয়েড হরমোন T3 ও T4 উৎপাদনে সহায়তা করে। প্রতিদিন দুটি ভেজানো ব্রাজিল নাট খেলে প্রায় ১০০–২০০ মাইক্রোগ্রাম সেলেনিয়াম পাওয়া যায়, যা অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট ছাড়াই থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
২. আয়োডিন
থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে আয়োডিন অপরিহার্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষ আয়োডিনের ঘাটতির কারণে থাইরয়েড সমস্যায় ভুগছেন। আয়োডিনযুক্ত লবণ ও অন্যান্য আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বজায় থাকে।
৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার
অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থাইরয়েড গ্রন্থির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার যেমন—বেরি, চেরি ও স্ট্রবেরি ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি কমায়। এসব খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে থাইরয়েডকে সুরক্ষা দেয়।
৪. জিঙ্ক
জিঙ্ক থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। জিঙ্কের ঘাটতি থাইরয়েডের সমস্যা বাড়াতে পারে। কুমড়োর বীজ জিঙ্কের ভালো উৎস। এক চা চামচ কুমড়োর বীজ রাতে ভিজিয়ে রেখে বা সকালে ভালো করে চিবিয়ে খেলে তা উপকারে আসে।
৫. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাইরয়েডের কার্যকারিতা উন্নত করতে ও প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। তিসির বীজ, চিয়া বীজ ও শণের বীজে প্রচুর ওমেগা-৩ পাওয়া যায়। প্রতিদিন এক চা চামচ তিসির তেল গ্রহণ করলে শরীরের প্রয়োজনীয় ওমেগা-৩ পূরণে সাহায্য করে।