রমজান মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার ও পানি গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হয়। ফলে অনেক রোজাদারের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি দেখা দেয়। বিশেষ করে গরম আবহাওয়া ও দীর্ঘ সময় রোজা রাখলে শরীরে পানির ঘাটতি আরও স্পষ্ট হতে পারে। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে রোজায়ও হাইড্রেটেড থাকা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সেহরিতে অন্তত ১-২ গ্লাস পানি পান করা উচিত। শুধু ইফতারের সময় নয়, বরং ইফতার থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত কিছুক্ষণ পরপর অল্প অল্প করে পানি পান করা ভালো। তবে খাবারের সঙ্গে সঙ্গে বেশি পানি পান না করে, খাবার ও পানি গ্রহণের মধ্যে অন্তত ১৫-২০ মিনিট বিরতি রাখা উচিত। এতে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।
রোজায় শসা, লেটুস, তরমুজসহ পানি সমৃদ্ধ ফল ও সবজি বেশি খাওয়া উপকারী। ইফতারে ডাবের পানি রাখতে পারেন, যা শরীরে দ্রুত পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ করে। এছাড়া স্যুপ, মসুর ডাল, ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর শরবত বা স্মুদি শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়ক।
চা, কফি ও কোমল পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে শরীর দ্রুত পানি হারায়। তাই রমজানে এসব পানীয় কম খাওয়াই ভালো। একই সঙ্গে অতিরিক্ত লবণাক্ত, প্রক্রিয়াজাত ও ভাজাপোড়া খাবার তৃষ্ণা বাড়ায় এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ইফতারে ঠান্ডা পানীয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও বিশেষজ্ঞরা হালকা গরম পানি পান করার পরামর্শ দেন। এটি হজমে সহায়তা করে এবং শরীর তরল পদার্থ সহজে শোষণ করতে পারে। বরফ-ঠান্ডা পানির তুলনায় কুসুম গরম পানি শরীরের জন্য বেশি উপকারী।
অতিরিক্ত পিপাসা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া—এসবই পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে ইফতারের পর পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, রোজায় সুস্থ থাকতে সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও সঠিক পানি গ্রহণের বিকল্প নেই। পরিকল্পিতভাবে পানি ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।