রাতের শেষে অনেকে ভেষজ চা, গোল্ডেন মিল্ক বা হালকা কোনো ঘরোয়া পানীয় পান করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরে তৈরি সহজ ও কার্যকর পানীয়গুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে গুড় ভেজানো পানি। এই পানীয় শুধু স্বাদে নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও ছোট কিন্তু কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারে। টানা এক মাস নিয়ম করে রাতে গুড় ভেজানো পানি পান করলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে? চলুন জেনে নেওয়া যাক—
১. হজমশক্তি উন্নত হয়
গুড় পাচক এনজাইম সক্রিয় করে হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে। রাতে এটি পান করলে খাবার ভালোভাবে হজম হয়, পেটে ভারীভাব কমে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যসহ হজমজনিত সমস্যার উপশম পাওয়া যায়। গুড় ভেজানো পানি মৃদু মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে, যা অন্ত্রের গতিবিধি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
২. ঘুমানোর আগে প্রশান্তি এনে দেয়
শীতকালে এর উষ্ণতা শরীরকে আরাম দেয়। পাশাপাশি গুড়ের ম্যাগনেসিয়াম পেশী শিথিল করে এবং স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করে। ২০২১ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম গুড়ে ৭০–৯০ মিগ্রা ম্যাগনেসিয়াম থাকে। নিয়ম করে পান করলে ঘুম দ্রুত আসে এবং ঘুম থেকে উঠে সতেজ অনুভূতি পাওয়া যেতে পারে।
৩. লিভারের প্রাকৃতিক ডিটক্স প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে
গুড় শরীরের প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে পরিচিত। রাতে এটি পান করলে ঘুমের সময় লিভারের ডিটক্স প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়। ফলে পরের দিন শক্তি ও সতেজতা বাড়তে পারে।
৪. প্রয়োজনীয় খনিজের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে
২০২৪ সালে জার্নাল অফ মেডিকেল সায়েন্স অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল রিসার্চ-এ প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, গুড় ভেজানো পানি নিয়ম করে পান করলে দেহে আয়রন, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজের ঘাটতি কিছুটা পূরণে সহায়তা করতে পারে। এগুলো ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য, শক্তি উৎপাদন ও পেশীর স্বাভাবিক কার্যকারিতায় ভূমিকা রাখে।
৫. হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক
আয়রনের একটি সহজ ও প্রাকৃতিক উৎস হিসেবে গুড় পরিচিত। রাতে এটি পান করলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করতে পারে। যারা আয়রনের ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতায় ভোগেন তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।