June 27, 2026, 4:19 am

ঢাকা উত্তর মহানগর যুবদলের সভাপতি পদে আলোচনায় রাকিবুল বাশার বনি

  • Update Time : Sunday, May 24, 2026

ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য সভাপতি পদপ্রত্যাশীদের তালিকায় এখন গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে মো. রাকিবুল বাশার বনির নাম। দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতি, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দলীয় দুঃসময়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের কাছে তিনি ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদল থেকে উঠে আসা রাকিবুল বাশার বনি গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হরতাল-অবরোধ, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে মাঠপর্যায়ে তার সক্রিয় উপস্থিতি সংগঠনের ভেতরে তাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

রাজনৈতিক পথচলার শুরুতে তিনি তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ২০০২ সালে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং পরবর্তীতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কলেজভিত্তিক ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে তিনি সংগঠনের ভেতরে পরিচিতি লাভ করেন।

পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান বনি। এরপর যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের দুই দফা কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে শরীফ উদ্দিন জুয়েল ও সাজ্জাদুল মিরাজ নেতৃত্বাধীন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে মিলটন-পাপেল নেতৃত্বাধীন কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে আওয়ামী লীগবিরোধী বিক্ষোভ, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচিতে তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও এসব কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ওয়ান-ইলেভেনের সময় মহাখালী এলাকায় তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের ব্যানারে প্রথম দিকের আন্দোলন সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বনি। সে সময় তার নেতৃত্বে মহাখালী এলাকায় ছাত্রদলের প্রতিরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল বলেও জানা যায়।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বিএনপির ডাকা প্রথমদিকের হরতাল কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মামলার আসামি হন তিনি। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি উচ্ছেদের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীর গেটে পুলিশের জলকামানের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘটনাও তার রাজনৈতিক জীবনের আলোচিত অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন তার অনুসারীরা।

এ ছাড়া মহাখালীতে তিতুমীর কলেজের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে তার রাজনৈতিক জীবনে। হরতাল-অবরোধ চলাকালে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলার শিকার হয়েছেন একাধিকবার বলেও দাবি করেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের কর্মসূচিতেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করেছেন বনি। খালেদা জিয়ার দেশব্যাপী সফরে সফরসঙ্গী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাজশাহী, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক হামলার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ নেতারা।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর হাজিরার দিন আদালত প্রাঙ্গণেও তাকে নিয়মিত দেখা যেত। গুলশানে খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ থাকাকালে তার নেতৃত্বে মিছিল সংগঠিত হয়েছিল বলেও দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনেও রাজধানীর রামপুরা এলাকায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন রাকিবুল বাশার বনি। আন্দোলনকেন্দ্রিক কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি ও সাংগঠনিক যোগাযোগ তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

২০২৫ সালে যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সম্প্রসারিত তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সাংগঠনিক অবস্থান আরও দৃশ্যমান হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, রাজপথমুখী রাজনীতি এবং দুঃসময়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি পদের আলোচনায় এখন গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসছে রাকিবুল বাশার বনির নাম। তবে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কাকে দায়িত্ব দেবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সমীকরণ, সাংগঠনিক মূল্যায়ন এবং দলের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর।

Spread the love
More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by Duronto Bangla
Theme Developed BY ThemesBazar.Com