নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে নামকরণের প্রস্তাব অনুমোদন করেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বরং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে নামকরণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঈদুল আজহার আগে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠায়। প্রস্তাবে কেন্দ্রটির নাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে করার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবের নোটে মন্তব্য করে জানিয়েছেন, কোনো ব্যক্তি বা নেতার নামে নতুন নামকরণ প্রয়োজন হলে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে সেটির নামকরণ করা যেতে পারে; বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে নীতিগতভাবে দেখেছেন এবং বিদ্যমান সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার বার্তা দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী, নতুন নামকরণ করতে চাইলে নতুন অবকাঠামো বা নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
২০০৬ সালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর অধীনে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কাজ করে আসছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ও অবকাঠামোর নাম পরিবর্তনের একটি দীর্ঘ সংস্কৃতি রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বিদ্যমান কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে নামকরণের পরামর্শকে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে সরকারি ব্যয় ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় আরও একটি আলোচিত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি মশা নিয়ন্ত্রণের উদ্ভাবনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তাবও অনুমোদন করেননি তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মশা নিধনের কৌশল শেখার জন্য বিদেশ সফরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী মত দেন যে দেশের বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যেই কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব। তিনি রসিকতার সুরে মন্তব্য করেন, সন্ধ্যার পর দেশের কোনো ডোবা বা জলাবদ্ধ এলাকার পাশে দাঁড়ালেই মশা নিয়ন্ত্রণের নতুন পদ্ধতি নিয়ে চিন্তা করার যথেষ্ট সুযোগ পাওয়া যায়।
সাম্প্রতিক দুটি সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক ব্যয় সাশ্রয়, বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখা এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ঘটনাটি রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সরকারি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রচলিত ধারা নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।