June 27, 2026, 6:45 am

ক্ষমতায় এলে চাঁদাবাজি-ঘুষ বন্ধের ঘোষণা জামায়াত আমিরের

  • Update Time : Saturday, February 7, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহ যদি তাদেরকে দেশের দায়িত্ব দেন, তবে এক ইঞ্চি জমিতেও কেউ চাঁদাবাজির সাহস পাবে না এবং কোনো অফিস-আদালতে ঘুষ লেনদেনের সুযোগ থাকবে না।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ জুলুমের শিকার হয়েছে। আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক নেতা, ছাত্র-শিক্ষক, সাংবাদিক, শ্রমিক-কৃষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—কেউই নিপীড়ন থেকে রেহাই পায়নি।

তিনি বলেন, “আমরা হজরত শাহজালাল (রহ.)–এর উত্তরসূরি। তিনি জুলুম ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, মজলুমের পক্ষে লড়েছিলেন। সেই আদর্শ নিয়েই আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।”

জামায়াত আমির দাবি করেন, আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার কথা বলার কারণে জামায়াতে ইসলামীর ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, হাজারো কর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন এবং লাখো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “চব্বিশের ৫ আগস্ট আল্লাহ যখন জাতিকে স্বস্তি দেন, আমরা কোনো বিজয় মিছিল করিনি; সেজদায় পড়ে শুকরিয়া আদায় করেছি। প্রতিশোধের রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না।”

দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এসব টাকা জনগণের হক। “এই অর্থ ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা যদি দেশের সেবার সুযোগ পাই, লুটেরাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”

সিলেটের সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও সিলেট আজও গ্যাস, বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি, নদীভাঙন ও ড্রেনেজ সংকটে ভুগছে। বৃষ্টি হলেই নগরী পানিতে ডুবে যায়। পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস ও অস্ত্রের দাপটে এলাকা অস্থির হয়ে উঠেছে। এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে জামায়াত যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় এলে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গ করা হবে, প্রবাসীদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে এবং নদীবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

নিজেকে সিলেটের সন্তান উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমি এখানে বড় হয়েছি, পড়াশোনা ও কর্মজীবন এখানেই। আজ আমি আমির হিসেবে নয়, আপনাদের একজন স্বজন হিসেবে দাঁড়িয়েছি। আমরা মালিক হতে চাই না, পাহারাদার হতে চাই।”

চা শ্রমিকদের দায়িত্ব সরকার নেবে, জলাশয় দখল বন্ধ করা হবে এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদীকে কাগজে নয়, বাস্তবে জীবন্ত করে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

জনসভা শেষে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান।

মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন শাহজাহান আলী ও জয়নাল আবেদীন। এতে জামায়াত ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেন।

Spread the love
More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by Duronto Bangla
Theme Developed BY ThemesBazar.Com