জেলা প্রতিনিধি:
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামের মাটিতে ফিরে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত মহাসমাবেশে তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কৃষি ও শিল্পায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং পরিবেশ রক্ষার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সমাবেশে বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান চট্টগ্রামের সঙ্গে নিজের ও পরিবারের আবেগঘন সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এখানেই তিনি শহীদ হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়াও এই শহর থেকেই দেশনেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে—যে পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা মিলবে। শুধু রাজনৈতিক সমালোচনা নয়, বাস্তব উন্নয়নই বিএনপির লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা সহজে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান। জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, চট্টগ্রামের খাল ও নালা পুনঃখননের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির আমলেই চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড গড়ে উঠেছিল। আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে আরও নতুন ইপিজেড স্থাপন করে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না। বিএনপি সরকারে গেলে কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং দলের কেউ অন্যায় করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে এবং দুর্নীতিবাজদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে সকালে নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, সারা দেশে জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ সহজ করা এবং বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট লোন চালুর কথাও জানান তিনি।
পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ৫০ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বায়ুদূষণ কমিয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করা যায়।
উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ বিরতির পর এই সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।