June 27, 2026, 7:16 am

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, আইসের গুলিতে নারী নিহতের ঘটনায় ক্ষোভ

  • Update Time : Sunday, January 11, 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তার গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার (১০ জানুয়ারি) শহরটিতে কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। একই ইস্যুতে দেশজুড়ে এক হাজারেরও বেশি বিক্ষোভ ও সমাবেশের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

তীব্র শীত ও ঝোড়ো হাওয়া উপেক্ষা করে মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভে অংশ নেন হাজারো মানুষ। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইস কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনে গুড নিহত হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ ঘটনায় মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব ও রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের বসবাসকারী মিনিয়াপোলিস মহানগর এলাকায় বিক্ষোভকারীরা আদিবাসী মেক্সিকান নৃত্যশিল্পীদের একটি দলের নেতৃত্বে মিছিল করেন। তারা সেই আবাসিক সড়কের দিকে যান, যেখানে নিজের গাড়ির ভেতরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন রেনে গুড।

মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের তথ্যমতে, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যায়। তারা রেনে গুডের নাম ধরে স্লোগান দেন এবং ‘অ্যাবলিশ আইস’, ‘নো জাস্টিস, নো পিস—গেট আইস আউট অব আওয়ার স্ট্রিটস’সহ নানা স্লোগানে মুখর করে তোলেন শহরের রাজপথ।

বিক্ষোভকারী এলিসন মন্টগোমারি রয়টার্সকে বলেন, “আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ ও হৃদয়ভাঙা। তবে একই সঙ্গে মনে হচ্ছে, এই আন্দোলন হয়তো ভালো কিছুর সূচনা করবে।”

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা গুলির ঘটনাটিকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তাদের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে দেখা গেছে—গুডের গাড়িটি আইস কর্মকর্তার কাছ থেকে সরে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই গুলি চালানো হয়।

অন্যদিকে আইসের তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) দাবি করেছে, কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালান। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, গুড তার গাড়ি কর্মকর্তার দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। এর আগে আরেক কর্মকর্তা তাকে গাড়ি থেকে নামতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এই ঘটনা ঘটে এমন এক সময়ে, যখন মিনিয়াপোলিস–সেন্ট পল এলাকায় প্রায় দুই হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়। ডিএইচএস এটিকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছে। এতে রাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রশাসন ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

অন্যান্য রাজ্যেও উত্তেজনা

মিনিয়াপোলিসের ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে আরেকটি গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি গাড়ি থামানোর সময় এক মার্কিন বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তা গুলি চালালে এক নারী ও এক পুরুষ আহত হন। ডিএইচএস জানায়, ওই চালক গাড়িটিকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করে কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

এই দুটি ঘটনার পর ইন্ডিভিজিবল ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)সহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ও নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘আইস আউট ফর গুড’ ব্যানারে শনিবার ও রোববার দেশজুড়ে এক হাজারের বেশি কর্মসূচির ডাক দেয়। সহিংসতা এড়াতে সব কর্মসূচি সূর্যাস্তের আগেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফিলাডেলফিয়ায় বিক্ষোভকারীরা সিটি হল থেকে একটি ফেডারেল আটক কেন্দ্রে মিছিল করেন। সেখানে তারা ‘আইসকে চলে যেতে হবে’ ও ‘নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দেন। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে কয়েকশ মানুষ অভিবাসন আদালতের পাশ দিয়ে মিছিল করেন, যেখানে শুনানি শেষে অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইন্ডিভিজিবলের সহ-নির্বাহী পরিচালক লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, “আমরা রেনের জন্য বিচার চাই, আমাদের সমাজ থেকে আইসকে বের করে দিতে চাই এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ চাই। যথেষ্ট হয়েছে।”

Spread the love
More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by Duronto Bangla
Theme Developed BY ThemesBazar.Com