আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর ফলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উত্তর ইসরায়েলের দিকে একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। ইরানের দাবি, ইসরায়েল লেবাননে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় এর জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই হামলা কেবল শুরু। তাদের ভাষ্যমতে, এটি টানা এক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযানের সূচনা মাত্র। হামলার পর আইআরজিসির অ্যারোস্পেস কমান্ডার মজিদ মুসাভি বলেন, “প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে।”
অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, উত্তরাঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েল। রাজধানী তেহরানসহ তাবরিজ ও ইস্পাহান শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র এফি ডেফরিন এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন, “ইরানি শাসকগোষ্ঠী একটি মারাত্মক ভুল করেছে, যার ফল ভোগ করতে হবে।”
পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ইরান তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
এদিকে ইসরায়েলও নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে গাজা উপত্যকায় প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথগুলো পুনরায় বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। বন্ধ হওয়া ক্রসিংগুলোর মধ্যে রাফাহ ও কেরেম শালম অন্যতম, যেগুলো গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম আরও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতির প্রভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সোমবার জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দূতাবাসের পক্ষ থেকে কর্মীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। আলোচনায় তিনি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং পরিস্থিতি আরও জটিল না করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দুই দেশের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।