নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে প্রথমবারের মতো বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তিনি গুলশানের চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে পৌঁছান।
গুলশান এভিনিউয়ের বাসা থেকে গাড়িবহর নিয়ে তিনি কার্যালয়ে আসেন। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম তিনি এই কার্যালয়ে এলেন। এক এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি চেয়ারপার্সনের জন্য এই কার্যালয়টি খোলা হয়েছিল।
কার্যালয়ে পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে দলের শীর্ষ নেতারা ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তারেক রহমান দোতলায় নিজের চেম্বারে গিয়ে বসেন এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের পাঠানো ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে হাসিমুখে গল্প করছেন। দেশে ফেরার পর তার শারীরিক কুশলাদি নিয়েও নেতারা খোঁজখবর নেন। পুরো পরিবেশ ছিল আন্তরিক ও প্রাণবন্ত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া ছিলেন মিডিয়া সেলের জ্যেষ্ঠ আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, সদস্য আতিকুর রহমান রুমন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ বগুড়া জেলার নেতৃবৃন্দ।
দলীয় সূত্র জানায়, নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তারেক রহমানের জন্য আলাদা একটি চেম্বার প্রস্তুত করা হয়েছে। দোতলায় চেয়ারপার্সনের চেম্বারের পাশেই এটি স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ফেরার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তবে এদিনই প্রথম তিনি সরাসরি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কার্যক্রমে যুক্ত হলেন।
বিএনপি নেতাদের মতে, তারেক রহমানের সক্রিয় উপস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে। আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচন প্রস্তুতিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।
কার্যালয়ে তার উপস্থিতিকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে বিএনপির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।