নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ফুলেল শ্রদ্ধায় বীর শহীদদের স্মরণে মুখর হয়ে উঠেছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষের ঢলে ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধ এলাকা।
ভোরের আলো ফুটতেই শহীদ বেদীতে জমতে শুরু করে শ্রদ্ধার ফুল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ফুলে ফুলে ঢেকে যায় পুরো বেদী। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের মানুষ হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে উপস্থিত হন বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করছেন। কেউ জাতীয় পতাকা হাতে, কেউবা শহীদদের স্মরণে নানা স্লোগান লেখা ব্যানার নিয়ে অংশ নিচ্ছেন এই শ্রদ্ধা নিবেদনে। এক অনাড়ম্বর কিন্তু গভীর আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো প্রাঙ্গণে।
মানিকগঞ্জ থেকে আসা স্কুল শিক্ষক রবিউল আলম বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। তিনি জানান, “যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি, তাদের কাছে আমরা চিরঋণী।”
অন্যদিকে কলেজ শিক্ষার্থী তানজিন আফরোজা বন্ধুদের সঙ্গে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, “আমাদের শহীদদের জন্যই আজকের বাংলাদেশ। তাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের গর্বিত করে।”
এর আগে ভোর ৬টার দিকে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর এবং সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম (গার্ড অব অনার) প্রদান করে। পরে তারা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এই জনস্রোত ও শ্রদ্ধা নিবেদন প্রমাণ করে, দেশের মানুষের হৃদয়ে এখনও অমলিন হয়ে আছে ১৯৭১ সালের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি।