নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগামী সপ্তাহের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে নির্বাচনে জয়ী হলে দেশের সামনে ‘বিশাল’ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আগের সরকারের শাসনামলে লুটপাট ও অব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশকে পুনর্গঠন করাই হবে তার সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
নির্বাচনে বিজয়ী হলে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। তার ভাষায়, ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকে।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ১৭ কোটি মানুষের এই দেশের সামনে কাজটি হবে অত্যন্ত কঠিন।
আগের সরকারের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে, জ্বালানি খাত ধ্বংস হয়েছে।”
ভোটে এগিয়ে থাকলেও সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বিএনপি। তবে নিজের কার্যালয়ে বসে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, তিনি জনগণের কাছ থেকে একটি বড় ও স্পষ্ট ম্যান্ডেট পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি একটি বড় ম্যান্ডেট পাব। সরকার গঠনের জন্য আমাদের অন্য কোনো জোটের প্রয়োজন হবে না।”
বাবা-মায়ের চেয়েও ভালো করার অঙ্গীকার
১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই মারা যান তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতৃত্ব নেন তিনি।
বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “তারা ছিলেন তারা। আর আমি আমিই।” তবে তিনি যোগ করেন, তাদের চেয়েও ভালো করার চেষ্টা করবেন।
নির্বাচিত হলে তার সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক উৎপাদনকারী দেশের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণ রয়েছে। তাদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।” বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগের কথাও জানান তিনি।
প্রতিবেশীসুলভ পররাষ্ট্রনীতি
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণ ও দেশের স্বার্থই তার কাছে সর্বাগ্রে। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অন্তত “প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক” বজায় রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতির অভিযোগও করেন। তার ভাষায়, “মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। কয়েকজন মানুষ ধনী হয়েছে, কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ কিছুই পায়নি।”
তবে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে অবস্থান নেন তারেক রহমান। নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করলেও তিনি বলেন, অপরাধ করলে ব্যক্তি হিসেবে আইন অনুযায়ী শাস্তি হওয়া উচিত, দল নিষিদ্ধ সমাধান নয়।