June 27, 2026, 7:16 am

জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল, ফুলে ফুলে ভরে উঠছে বেদি

  • Update Time : Tuesday, December 16, 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পূর্ব দিগন্তে সূর্য ওঠার আগমুহূর্ত। পিচঢালা সড়কে জমে আছে রাতের শিশির। ভোরের সেই নীরব মুহূর্তেই ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন মানুষ। কারও হাতে ফুলের তোড়া, কারও হাতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। আজ ১৬ ডিসেম্বর—মহান বিজয় দিবস। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বিশেষ দিন।

সকালের এই আবহেই সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। দিনের প্রথম প্রহরে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি, পরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান উপদেষ্টা।

এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদর্শন করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সদস্য, কূটনীতিকসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা। এরপর বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকেরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তখনই স্মৃতিসৌধসংলগ্ন ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অপেক্ষমাণ মানুষের ঢল নামে স্মৃতিসৌধে।

আশুলিয়ার পুবাইল এলাকা থেকে বাবার সঙ্গে স্মৃতিসৌধে আসার অপেক্ষায় ছিলেন নুসরাত জান্নাত (৭) ও বাইপাইলের শিফা মনি (৪)। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তাজনিত কারণে বাইরে অপেক্ষা করতে হলেও উচ্ছ্বাসে ভরপুর ছিল তারা। নুসরাত জানায়, ‘স্মৃতিসৌধে যাব, ঘুরব, ফুল দেব—ভালো লাগছে।’

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মৃতিসৌধ চত্বরে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদনে স্মৃতিসৌধের বেদি ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। শিশু-কিশোররা এসেছে পরিবারসহ—কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও গালে-কপালে আঁকা লাল-সবুজ, আবার কারও মাথায় পতাকাখচিত ব্যান্ড।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, ‘যে অপশক্তি আমাদের দেশকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে।’

সাভারের ব্যাংক কলোনি থেকে বন্ধুদের সঙ্গে স্মৃতিসৌধে আসা সাবিহা তাবাচ্ছুম বলেন, ‘দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। যাঁদের রক্তের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা, সেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এখানে আসা।’

Spread the love
More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by Duronto Bangla
Theme Developed BY ThemesBazar.Com