নিজস্ব প্রতিবেদক:
এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অসুস্থতার মধ্যেই তার ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার জল্পনা বেড়েছে। যদিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তার একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এর পর থেকেই তার নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, তারেক রহমান দেশে ফিরলে তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিমানবন্দর থেকেই তিনি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সুরক্ষা পেতে পারেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সমমর্যাদার ব্যক্তিদের মতোই বিশেষ প্রয়োজনে এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়। সম্প্রতি খালেদা জিয়াকেও ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে এসএসএফের নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই; ব্যক্তিগতভাবেও তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। তবে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) পর্যন্ত দেশে ফেরার কোনো উদ্যোগ তিনি নেননি। সেদিন খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কিছু মেডিকেল টেস্ট রয়েছে। রিপোর্ট সন্তোষজনক না হলে তাকে বিদেশে নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করা হবে। বিদেশ নেওয়া সম্ভব না হলে তারেক রহমান হঠাৎই দেশে ফিরতে পারেন। একটি সূত্র বলছে, তিনি ১১ ডিসেম্বরের মধ্যেও ফিরতে পারেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেই তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার আশা—পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে তারেক রহমান খুব দ্রুতই দেশে ফিরবেন।
উল্লেখ্য, ২৩ নভেম্বর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ২৯ নভেম্বর নিজের ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তার একক হাতে নেই—যা ফেরার কারণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এদিকে, লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট নবায়ন করেননি। দেশে ফিরতে হলে তাকে বাংলাদেশি অথবা অন্য কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্ট কিংবা ট্রাভেল পাস ব্যবহার করতে হবে। সরকার জানিয়েছে, তিনি চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত তিনি ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেননি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশে কারও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে তা দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় প্রস্তুত।