আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আগামী বছরের এপ্রিলে চীন সফর করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি। সোমবার সকালে ট্রাম্প–শি ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা পর দুই দেশের সম্পর্ককে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানান।
দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, আলাপচারিতায় যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য সম্পর্ক, তাইওয়ান, ইউক্রেন যুদ্ধ, ফেন্টানিল পাচার এবং মার্কিন কৃষকদের জন্য সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্য চুক্তি—এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ‘দারুণ’ কথোপকথন হয়েছে। তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষই বড় লক্ষ্যগুলোর দিকে এগিয়ে যেতে এবং ঘন ঘন যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।
যদিও ট্রাম্প কথোপকথনে তাইওয়ান ইস্যুর কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেননি, চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শি জিনপিং ফোনালাপে ট্রাম্পকে বলেছেন—তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে পুনঃএকত্রীকরণ ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ’। এমন মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন তাইওয়ান প্রশ্নে চীন–জাপান উত্তেজনা চরমে; জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সম্প্রতি বলেছেন, তাইওয়ান আক্রমণের মুখে পড়লে জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে।
চীন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন ‘তাইওয়ান বিষয়ে চীনের বিশেষ গুরুত্ব অনুধাবন করে।’
এ ফোনালাপ আসে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই নেতার গত মাসের বৈঠকের পরপরই—যে বৈঠকের আগে–পরে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল। সেই বৈঠকে হওয়া প্রাথমিক চুক্তির অংশ হিসেবে চীন এক বছরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে এবং যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর আশ্বাস দেয়। পাশাপাশি বেইজিং মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে সয়াবিন কেনা বাড়াতে সম্মত হয়েছিল।
সোমবার ট্রাম্প জানান, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি ‘ফেন্টানিল, সয়াবিন ও অন্যান্য কৃষিপণ্য’ নিয়েও আলোচনা করেছেন।