June 27, 2026, 6:41 am

ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি: প্রধানমন্ত্রী

  • Update Time : Saturday, March 14, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ সরকার শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে সরকার গঠনের পর ভোটের কালি মোছার আগেই সরকার ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের প্রতি সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে এবং জীবনের কঠিন সময়ে যাদের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা আশা করে। এই অনুষ্ঠানে ইসলাম ধর্মের ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষ ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতারাও উপস্থিত রয়েছেন।

তিনি বলেন, সমাজের অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং আর্থিক বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও সহায়তা কর্মসূচি চালু করছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ইতোমধ্যে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ চালু হবে। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচিও শুরু হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আজ থেকে ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হলো। যাদের প্রয়োজন রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সারাদেশে তাদের সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব। নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। তিনি বলেন, একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিবাদী বা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে।

তিনি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে পারে, কিন্তু মানবিক গুণাবলি অর্জনের জন্য ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা ও সহমর্মিতার মতো মূল্যবোধ জরুরি। এসব মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ধর্মীয় বিধিবিধানের আলোকে তারা যেন নিজেদের শিক্ষা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে দেশের কল্যাণে আরও বেশি কাজে লাগান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদকে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে দেশে প্রথমবারের মতো ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি চালু করা হয়েছিল। পরে ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালু করে।

বর্তমান সরকারও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য সম্মানী ভাতা চালুর পাশাপাশি তাদের দক্ষতাকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় নেতা মাসিক সম্মানী ভাতা পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যদি কেউ অর্থনৈতিক বা সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে চান, সরকার সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নেও সহযোগিতা করবে। এছাড়া প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

Spread the love
More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by Duronto Bangla
Theme Developed BY ThemesBazar.Com