নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার দুপুরে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ এই কম্পনে অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ভবন থেকে বের হয়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন। প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। আজ শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটের দিকে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়। কম্পনের স্থায়িত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ড, তবে এর তীব্রতা রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলোতেও টের পাওয়া যায়।
সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে প্রায় ১৮৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সাতক্ষীরা জেলায়। উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি হওয়ায় কম্পন তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা United States Geological Survey (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভারতের টাকি এলাকার ২৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এবং এর গভীরতা ছিল প্রায় ৯ কিলোমিটার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অগভীর গভীরতায় সৃষ্ট ভূমিকম্প সাধারণত বেশি অনুভূত হয়। বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় যেকোনো সময় মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী কম্পন (আফটারশক) আছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।