নিজস্ব প্রতিবেদক:
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন পর্যন্ত গৃহীত প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ভালোভাবে এগিয়েছে এবং এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই প্রক্রিয়াকে আরও নিখুঁত করা।
শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টার মতে বর্তমানে সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে। “একে অপরের বিরুদ্ধে কটু বক্তব্য বা অভদ্র আচরণের ঘটনা নেই, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ,”—বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন হবে উৎসবমুখর, নিরাপদ ও অংশগ্রহণমূলক। নারীসহ সাধারণ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শফিকুল আলম বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত প্রস্তুতি পর্বে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা খুশি। তবে আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও নিখুঁত করা।”
নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব জানান, সারাদেশের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যামেরা বিতরণ করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রধান উপদেষ্টা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার মতো দুর্গম এলাকার ভোটকেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও করেছেন।
তিনি জানান, ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপ পুরোপুরি চালু হয়েছে, যা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন। কোনো কেন্দ্রে বা কেন্দ্রের বাইরে বিশৃঙ্খলা হলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য পৌঁছে যাবে। দুর্গাপূজায় ৩২ হাজার মণ্ডপে এই অ্যাপ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সফল ছিল বলেও জানান তিনি।
প্রেস সচিব আরও বলেন, নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবেন ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৮৫ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, পুলিশের ১ লাখ ৫৭ হাজার এবং আনসারের ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৬ জন সদস্য।
নির্বাচনের প্রার্থীসংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ২৯৯ আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন, পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৯৪৬ জন।
এছাড়া নির্বাচনে প্রায় ৪০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও ৫০০ জন দেশীয় পর্যবেক্ষক থাকবেন বলে জানানো হয়। প্রায় ১ হাজার ২০০ বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচন কাভার করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রেস সচিব বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই এবং সব ভোটকেন্দ্রই গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় রয়েছে।