২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ইতিহাস গড়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো। আজতেকা স্টেডিয়ামে ৮৩ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উদ্বোধনী ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে এল ত্রি। একই সঙ্গে ম্যাচটি জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসেও, কারণ উদ্বোধনী ম্যাচে এবারই প্রথম দেখা গেল তিনটি লাল কার্ড।
জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মাঠে নেমেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে মেক্সিকো। ম্যাচের মাত্র নবম মিনিটের আগেই স্বাগতিকদের উল্লাসে ভাসান ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনিয়োনেস। বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তার শট দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের দুই পায়ের ফাঁক গলে জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপের এবারের আসরের প্রথম গোলদাতার নাম লেখান তিনি।
গোলটি শুধু ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দেয়নি, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসেও বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। এটি ছিল উদ্বোধনী ম্যাচে তৃতীয় দ্রুততম গোল। এর আগে ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের সিজার সাম্পাইও এবং ২০০৬ সালে জার্মানির ফিলিপ লাম আরও দ্রুত গোল করেছিলেন।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। তবে বিরতির পর তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। ৫০তম মিনিটে প্রতিপক্ষের নিশ্চিত আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর রক্ষণাত্মক চাপে পড়ে যায় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
এরপর ৬৬ মিনিটে মাঠে নামেন ১৭ বছর ২৪০ দিন বয়সী গিলবার্তো মোরা, যিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেক্সিকোর সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েন। তরুণ এই ফুটবলারের মাঠে নামার এক মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করে মেক্সিকো।
৬৭তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে রবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত ক্রস হেডে জালে পাঠান অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমিনেজ। গোল করার পর আবেগে ভেঙে পড়েন ৩৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তার সঙ্গে আনন্দ-অশ্রুতে ভেসে যান গ্যালারিতে উপস্থিত বহু মেক্সিকান সমর্থকও।
দুই গোলে পিছিয়ে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্দশা আরও বাড়ে ৮৪তম মিনিটে। আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে লাল কার্ড দেখেন মিডফিল্ডার থেম্বা জেওয়ানে। ফলে শেষ কয়েক মিনিট ৯ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় বাফানা বাফানা।
তবে ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে মেক্সিকোও ১০ জনে নেমে আসে। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে কঠোর ট্যাকলের কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সেন্টার-ব্যাক সেজার মন্তেস। যদিও তাতে স্বাগতিকদের জয় নিয়ে কোনো শঙ্কা তৈরি হয়নি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠে আজতেকা স্টেডিয়াম। দীর্ঘদিনের একটি আক্ষেপও ঘুচে যায় মেক্সিকোর। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে এর আগে সাতবার উদ্বোধনী ম্যাচ খেলেও কোনো জয় পায়নি তারা। অবশেষে অষ্টম প্রচেষ্টায় সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাল স্বাগতিকরা।