আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, খুব শিগগিরই এ চুক্তির বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে এবং এর আওতায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার বেশির ভাগ অংশ শেষ হয়েছে। এখন শুধু চূড়ান্ত অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির অপেক্ষা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে। তিনি এ আলোচনাকে “শান্তি-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক” তৈরির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
যদিও সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেননি ট্রাম্প, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো চুক্তির মূল লক্ষ্য হবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান অনেকটাই কাছাকাছি এসেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এখনো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে পূর্ণ সমঝোতা হয়নি।
বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “পরস্পরবিরোধী বক্তব্য” দেওয়ার অভিযোগও তোলেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান বর্তমানে একটি ১৪ দফা কাঠামোভিত্তিক “সমঝোতা স্মারক” চূড়ান্ত করার কাজ করছে, যা ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির ভিত্তি হতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, শনিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ হয়েছে এবং সেটি “খুব ভালোভাবে” সম্পন্ন হয়েছে।
পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার অসাধারণ প্রচেষ্টার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানাই।”
শাহবাজ শরিফ আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনায় পাকিস্তান সহায়তাকারী ও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই পরবর্তী দফার আলোচনা আয়োজনের আশা করছে ইসলামাবাদ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর ব্যাপক সামরিক হামলা চালায়। জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। এতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলেও এপ্রিলের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি আলোচনায় চূড়ান্ত সমঝোতা হয় এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া হয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।