নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগামী দুই বছরের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হলে সেখান থেকে সরাসরি বিমানে ঢাকায় যাতায়াত সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আশ্বাস অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিমানবন্দরটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু হবে, মন্ত্রীরা বলেছেন হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে ইনশা আল্লাহ আমরা ঠাকুরগাঁও থেকে বিমানে চড়ে ঢাকা যাব। এখন আমাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। জেলার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প অনেক দূর এগিয়েছে এবং মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কাজও চলছে। এছাড়া সদর উপজেলাকে ভাগ করে ভূল্লী ও রুহিয়া উপজেলা গঠনের গেজেট ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করছেন এবং ভবিষ্যতে আরও উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখানে কলকারখানায় বিনিয়োগ করুন। তাহলে মানুষের আয়-রোজগার বাড়বে। আপনারা উদ্যোগ নিলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।”
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক বক্তব্যেও সরব ছিলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, “জুলাই সনদ” নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, অথচ এটি তাদেরই উদ্যোগে তৈরি হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতার ইতিহাসের কারণে দলটিকে জনগণ কখনোই ক্ষমতায় দেখতে চাইবে না।
এর আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর চেষ্টা করছে। তিনি জানান, পরিদর্শনে রানওয়ে ও অবকাঠামো ঘুরে দেখা হয়েছে এবং আগামী মাসের মধ্যেই প্রাথমিক কাজ শুরু হতে পারে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতারা।