নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খাস জমি দ্রুত উদ্ধার করে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারি জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত ভূমি সেবা মেলা-২০২৬ পরিদর্শনের সময় ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম-কে এ নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী সরকারি সম্পদ রক্ষায় কোনো ধরনের আপস না করার কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে যারা সরকারি জমি দখল করে রেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে খাস জমি উদ্ধারে চলমান অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দেন তিনি।
সম্প্রতি রাজধানীর লালবাগ এলাকায় প্রায় এক একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার অভিযান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে অবৈধ দখলে থাকা ওই জমি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করে ঢাকা জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে প্রশাসনিক দৃঢ়তা ও দ্রুত বাস্তবায়নের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ অভিযানকে স্থানীয়রা “সাহসী ও নজিরবিহীন উদ্যোগ” হিসেবে দেখছেন।
জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া মূল্যবান জমিটি ভবিষ্যতে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও সরকারি উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হবে।
ভূমি সেবা মেলা পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসনের নাগরিকসেবা সহজীকরণ উদ্যোগ সম্পর্কেও অবহিত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জেলা প্রশাসক ‘হ্যালো ডিসি’ নামে একটি জরুরি সেবা চালুর কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, নাগরিকদের দোরগোড়ায় দ্রুত ও সহজ সেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
এদিকে ভূমি সেবা মেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৪৭টি চেকের মাধ্যমে ৮৮ জন ব্যক্তির মধ্যে মোট ৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৭৮ হাজার ৫১৭ টাকার ভূমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ বিতরণ করা হয়।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ভূমি সংক্রান্ত সেবাকে আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সারাদেশে সবচেয়ে বেশি ই-নামজারি আবেদন জমা পড়ে ঢাকা জেলায়। নিষ্পত্তির হারেও এগিয়ে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
গত ৩০ দিনে ঢাকা জেলায় প্রায় ৩০ হাজার নামজারি আবেদনের মধ্যে ২৩ হাজার ৬৩টি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে গড়ে সময় লেগেছে ১৯ দিন, যা ভূমি মন্ত্রণালয় নির্ধারিত ২৮ দিনের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা, দ্রুত সেবা প্রদান এবং অবৈধ দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে ভূমি প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।