আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে ব্যতিক্রমধর্মী এক গণবিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। দেশটির রাজধানী তেহরান-এ কয়েকশ তরুণ-তরুণীর এই বিয়ের আয়োজন করে সরকার সমর্থিত একটি কর্মসূচি, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গের অঙ্গীকার করেছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, নবদম্পতিরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বিভিন্ন স্থানে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিচ্ছেন। সরকারি সূত্র বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনোবল শক্ত রাখতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি নতুন একটি স্বেচ্ছাসেবী স্কিম চালু করেছে ইরান সরকার। এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সংঘাতে আত্মত্যাগের অঙ্গীকার করছেন। সরকারি দাবি অনুযায়ী, ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মানুষ এতে নাম নিবন্ধন করেছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম France 24-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় মানবঢাল হিসেবেও কাজ করতে রাজি হয়েছেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বা কৌশলগত স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা দেখা দিলে সেখানে অবস্থান নিয়ে হামলা প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন এবং নতুন হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর জবাবে ইরান সরকার দেশপ্রেম ও প্রতিরোধের বার্তা জোরদার করতে জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উদ্যোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ-ও সমর্থন জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ইরান সরকার অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও জনসমর্থন জোরদারে প্রতীকী ও আবেগঘন কর্মসূচির দিকে ঝুঁকছে। গণবিয়ের এই আয়োজনও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।