আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হরমুজ প্রণালির উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছ থেকে একটি জাহাজ জব্দ করার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ইরানের জলসীমার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটি জব্দ করা হয়। ঘটনার পর থেকেই জাহাজটির গতিপথ ইরানের জলসীমার দিকে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে কারা জাহাজটি জব্দ করেছে কিংবা জাহাজটির মালিকানা ও বহন করা পণ্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। যদিও পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, তবুও অঞ্চলটিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।
বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র দাবি করছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি বন্দরের ওপর নৌ অবরোধ জারি করেছে।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হতো। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এরই মধ্যে গত রোববার দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে তাদের একটি কার্গো জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। পরে কাতার জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তাদের জলসীমার দিকে আসার সময় জাহাজটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। তবে সৌদি আরব ও বাহরাইন মার্কিন বাহিনীর জন্য তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয় ওয়াশিংটনকে।
যদিও পরে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় তিনি সামরিক অভিযান স্থগিত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই জাহাজ জব্দের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন করে বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর করতে পারে।