ক্রীড়া প্রতিবেদক:
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। নাহিদ রানার দুর্দান্ত পেস বোলিংয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ১৬৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে ১০৪ রানের বড় জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। এর মধ্য দিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে টানা তৃতীয় জয়ও তুলে নিল বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের জন্য বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল দীর্ঘ ২৩ বছর। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে, যেখানে দুই ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে জয় পায় টাইগাররা। এবার মিরপুর টেস্ট জিতে ঘরের মাঠেও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় তুলে নিল বাংলাদেশ।
২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। কট বিহাইন্ড হওয়ার আগে ৫ বলে মাত্র ২ রান করেন তিনি। অপর ওপেনার আজান আওয়াইস ৩৩ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন। অধিনায়ক শান মাসুদও ব্যর্থ হন, তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান।
৬৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে পাকিস্তান। এরপর আব্দুল্লাহ ফজল ও সালমান আগা চতুর্থ উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে কিছুটা স্বস্তি দেন। তবে তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে সেই জুটি ভেঙে যায়। ১১৩ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৬৬ রান করা ফজল এলবিডব্লিউ হন। পরের ওভারেই সালমান আগাকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন। তিনি করেন ২৬ রান।
এরপর উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সৌদ শাকিল প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও নাহিদ রানার গতির সামনে টিকতে পারেননি। টানা দুই ওভারে এই দুই ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান তরুণ এই পেসার। দুজনই করেন ১৫ রান করে।
পরে হাসান আলিকে ১ রানে এলবিডব্লিউ করেন তাইজুল ইসলাম। শেষ দুই উইকেটও তুলে নেন নাহিদ রানা। এতে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। ৪০ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক বনে যান এই ডানহাতি গতিতারকা।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম নেন দুটি করে উইকেট। একটি উইকেট পান মেহেদী হাসান মিরাজ।
এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি এবং মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের ফিফটিতে বাংলাদেশ তোলে ৪১৩ রান। জবাবে আজান আওয়াইসের শতকে ভর করে পাকিস্তান করে ৩৮৬ রান।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। অধিনায়ক শান্ত করেন ৮৭ রান। এছাড়া মুমিনুল হক ৫৬, মুশফিকুর রহিম ২২, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪ এবং তাসকিন আহমেদ করেন ১১ রান। ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।
শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি সফরকারীরা। নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে গুঁড়িয়ে যায় পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। আর তাতেই ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।