নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে মামলার এজাহারে। পরিবারের দাবি, বসিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
বুধবার সকালে নিউমার্কেট থানা-এ টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮ থেকে ৯ জনকে আসামি করা হলেও এজাহারে কয়েকজন পরিচিত সন্ত্রাসীর নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল (কাইলা বাদল), শাহজাহান এবং রনি ওরফে ডাগারি রনি।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেট এলাকার বটতলা সংলগ্ন শহীদ শাহ নেওয়াজ হলের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন টিটন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ কারাভোগের পর গত বছর জামিনে মুক্তি পান টিটন। মুক্তির পর অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিলেন তিনি। সম্প্রতি বসিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে ব্যবসায় নামার পরিকল্পনাও করেছিলেন।
তবে এ ব্যবসা ঘিরেই নতুন করে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। গত ২৬ এপ্রিল তিনি তার ভাইকে জানান, উল্লিখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছে। পরদিন বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি বৈঠকে ডাকার কথাও জানান তিনি। পরিবারের ধারণা, সেই বৈঠকের সূত্র ধরেই তাকে ফাঁদে ফেলে হত্যা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, টিটন হেঁটে যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুই হামলাকারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে কাছ থেকে মাথায় আরেকটি গুলি করা হয়। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের শুরুতে অপরাধ জগতে প্রবেশ করা টিটন দ্রুতই রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন হয়ে ওঠেন। ২০০১ সালে প্রকাশিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তিনি দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর মামলার আসামি ছিলেন তিনি এবং একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডও পান।
সব মিলিয়ে, বসিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধ, পূর্ব শত্রুতা এবং আন্ডারওয়ার্ল্ডের অভ্যন্তরীণ সংঘাত—এই তিনটি কারণকেই টিটন হত্যার সম্ভাব্য মূল সূত্র হিসেবে বিবেচনা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।