নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
রাত পৌনে ১০টার দিকে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, আহতদের জরুরি বিভাগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক, শিক্ষার্থী তানজিম, আলভি ও এহসান। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরাও হামলার শিকার হয়েছেন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে কালের কণ্ঠ, ঢাকা ট্রিবিউন, ঢাকা মেইল, মানবজমিন, ডেইলি অবজারভারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাদের একজন, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত পেয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার-এ।
ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন শিক্ষার্থীর নামে প্রচারিত পোস্টে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং পরে নিরাপত্তার জন্য শাহবাগ থানা-য় সাধারণ ডায়েরি করতে যান।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয় এবং এক পর্যায়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরাও।
সংঘর্ষ চলাকালে বিভিন্ন হলভিত্তিক ছাত্রদল নেতাদের উপস্থিতিতে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া “শিবির-সাংবাদিক একসাথে চলে না” স্লোগানও দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে আরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা দুঃখ প্রকাশ করলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা এটিকে ‘পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং খতিয়ে দেখছেন।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।