নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজপথের এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা ভিপি হানিফ, যিনি গত দেড় মাস ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যন্ত্রণাদায়ক সময় পার করছেন, তার চিকিৎসায় এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল ২২ এপ্রিল ২০২৬, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হাসপাতালে তাকে দেখতে যান এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তদারকি ও আর্থিক সহায়তা:
গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ (ঢাকা-১৭ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত) জনাব আব্দুর রহমান সানি এবং প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার শাহ মো. আমান উল্লাহ ভিপি হানিফকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় তারা অসুস্থ নেতার শয্যাপাশে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং তার শারীরিক অবস্থার খুঁটিনাটি খোঁজ নেন।
প্রতিনিধি দলটি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে ভিপি হানিফের চিকিৎসার সার্বক্ষণিক খবর রাখছেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতাও প্রদান করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ বলেন, “দেশ ও দলের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় তাদের পাশে আছেন। ভিপি হানিফ আমাদের সম্পদ, তার সুস্থতার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবটুকুই করা হবে।”
উল্লেখ্য, গত মাসে ঈদের দিনে হাসপাতালে নিঃসঙ্গতা ও অবহেলার এক করুণ আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন ভিপি হানিফ। সেই সময়কার মানসিক ক্ষত কাটিয়ে উঠতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফর এবং প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ উদ্যোগ এক অনন্য ‘মলম’ হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি ও সহমর্মিতায় এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন চিকিৎসাধীন এই লড়াকু নেতা।
বিশেষ মেডিকেল বোর্ড ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ:
ভিপি হানিফের পায়ের ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. পি. সি. বিশ্বাসকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার চিকিৎসার তদারকিতে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘বিশেষ মেডিকেল বোর্ড’ গঠন করা হয়েছে যারা সার্বক্ষণিক তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে।
তৃণমূলের স্বস্তি:
কয়েক দফা অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে ভিপি হানিফের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ঝটিকা সফর তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। রাজপথের একজন সহযোদ্ধার প্রতি রাষ্ট্রের এই সংবেদনশীলতা ভবিষ্যতে কর্মীদের মনোবল আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ।
প্রিয় নেতার দ্রুত সুস্থতা কামনায় বর্তমানে ঢামেক প্রাঙ্গণে অনেক নেতাকর্মীকে ভিড় করতে দেখা গেছে। সবাই এখন কেবল একটিই প্রত্যাশা করছেন- আবারও রাজপথের সেই পরিচিত কণ্ঠে গর্জে উঠুক গণমানুষের দাবি।