নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন তিতুমীর কলেজের সাবেক ভিপি এবং রাজপথের লড়াকু নেতা মো. হানিফকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ১৭ এপ্রিল বিকেলে তিনি অসুস্থ এই নেতার শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
মন্ত্রীর এই পরিদর্শনে সাথে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস (পি.সি. বিশ্বাস) এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এ সময় বার্ন ইউনিটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. হানিফের শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে চিকিৎসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনেন। গত ২২ জানুয়ারী নির্বাচনী প্রচারণার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হানিফের পায়ে যে জটিল সংক্রমণ দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলায় সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভিপি হানিফের মতো ত্যাগী নেতাদের জীবন রক্ষায় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অত্যন্ত আন্তরিক। তার সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা কার্পণ্য করব না।”
দীর্ঘশ্বাসের পর সান্ত্বনার ছোঁয়া
গত মাসে ঈদের দিন হাসপাতালে একাকীত্ব ও অবহেলার যে আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন ভিপি হানিফ, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই সফর যেন সেখানে কিছুটা মলম হিসেবে কাজ করেছে। চিকিৎসাধীন হানিফ মন্ত্রীর উপস্থিতি এবং তার প্রতি সহমর্মিতায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। মন্ত্রী তার পিঠে হাত রেখে তাকে সাহস দেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার জনসেবায় ফিরে আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. পি.সি. বিশ্বাসকে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয় যেন ভিপি হানিফের পায়ের ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালায়। ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমানে তাকে দক্ষ সার্জনদের অধীনে রাখা হয়েছে এবং ঔষধপত্রসহ আনুষঙ্গিক সব সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজপথের এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা ভিপি হানিফ গত দেড় মাস ধরে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যন্ত্রণাদায়ক সময় পার করছেন। কয়েক দফা অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে এবং তারা আশা করছেন, এবার হয়তো যথাযথ গুরুত্বের সাথেই প্রিয় নেতার পরবর্তী চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।