June 27, 2026, 5:32 am

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত আছে: প্রতিমন্ত্রী

  • Update Time : Friday, April 17, 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে মজুত বাড়িয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জুন মাসের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় আগাম প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্তমানে শোধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৯ সাল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে শিল্প ও কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে দেখা গেছে, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে অপরিশোধিত তেলের সংকটের কারণে পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ ১৩ এপ্রিল সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানে বিঘ্ন ঘটছে। সর্বশেষ চালান দেশে পৌঁছায় ১৮ ফেব্রুয়ারি, আর নতুন চালান মে মাসের শুরুতে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

শোধনাগারের কর্মকর্তারা জানান, মূল মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার পর কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং সংরক্ষণ ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেড স্টক ব্যবহার করে কয়েকদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই মজুতও ফুরিয়ে যাওয়ায় শোধন কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ইস্টার্ন রিফাইনারি সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে। তবে সংকটের কারণে গত মাসে তা কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। প্রায় ৩৩ হাজার টন ডেড স্টক এবং অতিরিক্ত ৫ হাজার টন তেল ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধিত হয়। এই শোধনাগার থেকে এলপিজি, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেসসহ মোট ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদিত হয়। বাকি চাহিদা পূরণে ভারত ও চীন থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার জ্বালানি মজুত বৃদ্ধির দাবি করলেও শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। দ্রুত নতুন চালান এসে পরিশোধন কার্যক্রম স্বাভাবিক না হলে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।

Spread the love
More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2026 © All rights reserved by Duronto Bangla
Theme Developed BY ThemesBazar.Com