আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে দ্বিতীয় দফা সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে পাকিস্তান। দেশটির একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে তুরস্কভিত্তিক বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও ভারতের পিটিআই জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই সংলাপকে ঘিরে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
পাকিস্তানের একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর। সংলাপ চলাকালে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক তেহরান সফরকেও এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সফরটি ছিল মূলত সংলাপের পরিবেশ তৈরি এবং দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার ঘাটতি কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়, যা টানা ৪০ দিন ধরে চলে। পরে ৮ এপ্রিল দুই দেশ ১৪ দিনের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
যুদ্ধবিরতির তৃতীয় দিনে ইসলামাবাদে প্রথম দফা সরাসরি সংলাপে বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকেও স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব হয়নি। তবে উভয় পক্ষই আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ বলে অভিহিত করে এবং সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফা সংলাপ আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষই আবার ইসলামাবাদে বসতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর প্রেক্ষিতে পাকিস্তান নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং সফল সংলাপ আয়োজনের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংলাপ সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে এবং দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের একটি কার্যকর পথ তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে এখনও বেশ কিছু জটিল ইস্যু রয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।