আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই বৈঠক ‘খুব শিগগিরই’ অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়ার্ক পোস্টকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানে সম্ভাব্য এই বৈঠক দ্রুতই সম্পন্ন হতে পারে। তিনি জানান, “এটি খুব শিগগিরই ঘটবে—আসলে খুব দ্রুতই এটি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।”
তবে সম্ভাব্য এই বৈঠকে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনায় উপস্থিত নাও থাকতে পারেন। তিনি বলেন, “আমাদের দলে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার থাকবেন। জেডিও থাকতে পারেন, আবার নাও পারেন। সেখানে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার একটি বড় প্রশ্ন রয়েছে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছয় সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ-এর নেতৃত্বে একটি মধ্যস্থতাকারী দল কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাকিস্তান রাজধানী ইসলামাবাদ-এ আগামী শুক্রবার একটি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে।
এর আগে, সংঘাত নিরসনে ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে একটি সম্ভাব্য স্থায়ী চুক্তির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছেন ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বাস্তবায়ন করা কঠিন হতে পারে।
চূড়ান্ত সমঝোতা এখন নির্ভর করছে কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের পরিকল্পনা এবং ভূগর্ভে সংরক্ষিত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তবে নিরাপত্তা, আস্থা এবং পারস্পরিক শর্ত নিয়ে জটিলতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।