বিনোদন ডেস্ক:
ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা প্রিন্স ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার মাঝেই ছবিটির সীমাবদ্ধতা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। ভিএফএক্স, কালার গ্রেডিং ও অন্যান্য কারিগরি ত্রুটি নিয়ে দর্শকদের সমালোচনার প্রেক্ষিতে তিনি টিমের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে শাকিব খান বলেন, “আমি এটি মানছি যে ‘প্রিন্স’ টিম পরিপূর্ণ ছবি আপনাদের দিতে পারেনি। আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু সবকিছু ঠিকভাবে দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে পারিনি।”
রাত ১২টার পরও সিনেমা হলে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই তারকা। তিনি বলেন, “রাত ১২টায়ও আপনারা হলে আসছেন—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া।” সমালোচনার পরও দর্শকদের এই ভালোবাসা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি।
ছবির কারিগরি দুর্বলতার পেছনে নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন শাকিব খান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুটিংয়ের অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রায় তিন মাস পারমিশনের কারণে কাজ বন্ধ থাকায় নির্ধারিত শিডিউল ভেঙে যায়।
তিনি জানান, সিনেমাটির বড় অংশ ভারতের নির্দিষ্ট একটি লোকেশনে শুটিং করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় পুরো সেটআপ নতুন করে সাজাতে হয়, যা সময় ও প্রস্তুতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
সমালোচনার মাঝেও ছবিটি নিয়ে আশাবাদী শাকিব খান। তিনি বলেন, মুক্তির পর প্রথমদিকে মাল্টিপ্লেক্সে কম শো পেলেও পরে দর্শক চাহিদার কারণে শো বেড়েছে। “খারাপ রিভিউর পরও দর্শক হলে আসছে—এটাই আমাদের জন্য বড় বিষয়,” যোগ করেন তিনি।
আগামীতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়ে শাকিব খান বলেন, ভবিষ্যৎ সিনেমাগুলোতে পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা (প্ল্যান বি) রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। সময় ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি মান উন্নয়নের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানান তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, “আমরা যেটা দেখাতে চেয়েছিলাম, সেটা পুরোপুরি দেখাতে পারিনি—এটা আমাদের ব্যর্থতা। তবে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ উপহার দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।”
সমালোচনা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ‘প্রিন্স’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ এবং শাকিব খানের তারকাখ্যাতি আবারও প্রমাণ করেছে ঢালিউডে তার অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থান।