নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে চলতি মার্চ মাসে। মাস শেষ হওয়ার আগেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন সাড়ে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, যা একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে নতুন মাইলফলক গড়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, মার্চ মাসের প্রথম ২৯ দিনেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন প্রায় ৩৪৯ কোটি মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২২ টাকা) যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্য দিয়েই ভেঙে গেছে আগের সব রেকর্ড।
এর আগে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে, তখন প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক গতি তৈরি হয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে এসেছিল ৩০২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি প্রায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স ছিল ২৫২ কোটি ডলার।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫৯৪ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৭৪ কোটি ডলার।
এদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় আমদানি ব্যয় পরিশোধের পরও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ৩০ মার্চ দিন শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর বিপিএম–৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।