নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাবে দেশে তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সামনে দেশের জন্য একটি ‘কঠিন সময়’ অপেক্ষা করছে।
শনিবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে ‘নেহা নদী’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “আমাদের সামনে খুব ভালো সময় নেই। যুদ্ধের প্রভাব আমাদের ওপর পড়ছে। তেলের দাম বাড়বে, জিনিসপত্রের দাম বাড়বে—তবে এসব পরিস্থিতি মেনে নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি স্মরণ করেন, জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। “ওই কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে আজ দেশের পানির সমস্যা অনেকটাই কমে যেত,” বলেন তিনি।
কৃষকদের উন্নয়নে খালেদা জিয়া-এর অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানেও তারেক রহমান কৃষকদের সহায়তায় নানা উদ্যোগ নিচ্ছেন।
দেশজুড়ে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি সংশ্লিষ্টদের সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কাজ এমনভাবে করতে হবে যাতে আল্লাহ খুশি হন এবং মানুষ সন্তুষ্ট থাকে।”
বক্তব্যে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ধর্ম মানুষের অন্তরের বিষয়। ধর্মকে ব্যবহার করে কিছু অর্জন করা যায় না।” তিনি সৎ জীবনযাপন, হালাল উপার্জন এবং নিয়মিত ইবাদতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ করে নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর প্রতিশ্রুতিতে প্রভাবিত না হয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চলতে হবে।
অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলার অভাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি জাতি হিসেবে উন্নতি করতে হলে শৃঙ্খলা অপরিহার্য।
এছাড়া সাম্প্রতিক এক ঘটনায় ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পেট্রোল পাম্পে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, অভিযোগ থাকলে তা আইনগতভাবে সমাধান করতে হবে, কোনোভাবেই ‘মব’ তৈরি করা যাবে না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না। মবকে কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়া জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নেহা নদীর পুনঃখনন কাজ আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।