আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হওয়ার দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম। তারা বলছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো ধরনের আলোচনা বা যোগাযোগই হয়নি।
সোমবার ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সংলাপ চলছে না। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্পের ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ সংক্রান্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন। বরং এটি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর একটি কৌশল এবং সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে সময়ক্ষেপণের চেষ্টা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগ নিলেও মূল দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তায়। তাদের মতে, এই সংঘাতের সূচনা ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ থেকেই।
এদিকে ইরানের আরেক সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বা কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও ইরানের কোনো যোগাযোগ হয়নি।
সূত্রটি আরও দাবি করেছে, উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েল-এর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রই কার্যত পিছু হটেছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে করা এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরান সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এখনো এ বিষয়ে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘চমৎকার ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, আলোচনার ধারাবাহিকতা বিবেচনায় ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম কিছুটা কমে আসে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা দাবির বিপরীতে ইরানের অস্বীকৃতি—এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে।