জেলা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় একটি লেভেল ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে মেইল ট্রেনের ধাক্কায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী। রোববার (২২ মার্চ) ভোররাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুরগামী “মামুন স্পেশাল” (মামুন পরিবহন) বাসটি ক্রসিং পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মেইল ট্রেন সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়, যা গিয়ে থামে জাঙ্গালিয়া-কচুয়া এলাকায়। এতে বাসটি সম্পূর্ণভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান উপস্থিত না থাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ইপিজেড ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়ায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুই শিশু রয়েছে। আহত অন্তত ১৮ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যাদের মধ্যে আটজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর সকাল ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ট্রেনটি ঘটনাস্থলেই আটকে ছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি ট্রেনের সামনে চাপা অবস্থায় ছিল। এর ফলে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার তদন্তে বাংলাদেশ রেলওয়ে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি (একটি বিভাগীয় ও একটি আঞ্চলিক) গঠন করেছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক।
এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পদুয়ার বাজার ক্রসিংয়ের গেটম্যান মেহেদী হাসান ও হেলাল উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।