জেলা প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেয় পুলিশ প্রশাসন।
পুলিশ জানায়, মানবিক বিবেচনায় নিহতদের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কেবল সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে দেওয়া হয়েছে।
স্বজনরা মরদেহ নিতে আগেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। মরদেহ হস্তান্তরের সময় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আহমেদ জানান, নিহতদের মধ্যে ১০ জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এবং চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকার কাছে বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে নৌবাহিনীর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হন।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় পড়া মাইক্রোবাসটিতে মোট ১৫ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১১ জন ছিলেন বরের পরিবারের সদস্য এবং চারজন কনের পরিবারের সদস্য। নিহতদের মধ্যে মোংলা পোর্ট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকসহ বরের পরিবারের ৯ সদস্য, কনের পরিবারের ৪ সদস্য এবং মাইক্রোবাসের চালক রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা এলাকার মিতুর সঙ্গে সাব্বিরের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। বিয়ের পর নবদম্পতি মোংলায় তাদের নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, যা মুহূর্তেই শেষ করে দেয় তাদের সব স্বপ্ন।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নৌবাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারা স্বজনদের সহায়তা করেন। পরে রাতেই অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহগুলো দাফনের জন্য নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।