আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে মনোনীত করা হয়েছে। তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর এই ঘোষণা আসে। গতকাল রোববার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচনকারী পরিষদ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেয়। এর পরপরই দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনী তার প্রতি সমর্থন ও আনুগত্য প্রকাশ করে।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি নতুন নেতার নেতৃত্বে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি দেশের নিরাপত্তা কৌশল পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অনুসরণ করা ইরানিদের জন্য ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব।
মোজতবা খামেনি কখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি এবং জনগণের সরাসরি ভোটেও নির্বাচিত হননি। তবে বহু বছর ধরে তিনি সর্বোচ্চ নেতার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বলয়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
বৈরুতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জননীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রামি খৌরি বলেন, মোজতবা খামেনির নিয়োগ ইরানের শাসন ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেয়। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা চলমান যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনার পথে এগোবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত মূলত একটি স্পষ্ট বার্তা—ইরান তাদের শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেবে না। বরং নতুন নেতা নিহত বাবার চেয়েও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন।
সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিষদের সদস্য হেইদারি আলেকাসির জানান, প্রয়াত খামেনির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই উপদেশ ছিল—ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে শত্রুর প্রশংসা পাওয়ার চেয়ে শত্রুর ঘৃণার কারণ হওয়া উচিত।
এর আগে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছিল, ইরানে যে-ই নতুন নেতা হোন না কেন, প্রয়োজনে তাকেও লক্ষ্যবস্তু করতে তারা দ্বিধা করবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ওপর প্রভাব খাটানোর কথা বলেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া যাকে এই পদে বসানো হবে, তিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।