নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ-কে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। রোববার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাকে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আটক করে।
বার্তা সংস্থা ANI-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন নামে আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই অভিযোগপত্রে ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়। অভিযোগপত্র দাখিলের সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ফয়সাল নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর সদস্য ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় ফয়সালসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর। সেদিন ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদি নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় রাজধানীর পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন মডেল থানায় ফয়সালসহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপ নেয়। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের ধারণা ছিল, ঘটনার পর ফয়সাল ভারতে পালিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তবে এক পর্যায়ে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেছিলেন যে তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। সর্বশেষ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামিকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।