আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
তেহরান: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না ইরান—এমন ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে জানান, সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে তেহরান আলোচনার পথ বেছে নেবে না; বরং কঠোর জবাব দেবে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান। তবে লারিজানি ওই খবর সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, “চাপ, হুমকি বা আগ্রাসনের মুখে ইরান কখনো আলোচনায় বসবে না।”
এক্সে দেওয়া পোস্টে লারিজানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ড্রোনাল ট্রাম্প-এর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, “ট্রাম্প তার ‘অবাস্তব কল্পনায়’ বাস করেন। তিনি এই কল্পনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এখন তিনি আরও মার্কিন সেনা হতাহতের আশঙ্কায় ভীত।”
এর আগে দেওয়া বক্তব্যে লারিজানি বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশকে লক্ষ্য করে নয়; বরং অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোই ছিল প্রধান লক্ষ্য। তার দাবি, এটি ছিল আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া, আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নয়।
রোববার তিনি আরও কঠোর ভাষায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দেন। লারিজানি বলেন, “গতকাল ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এবং তারা আঘাত পেয়েছে। আজ আমরা তাদের এমন শক্তিতে আঘাত করব, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।”
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামিনি নিহত হওয়ার পর থেকেই দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে কঠোরতা বেড়েছে। লারিজানির সর্বশেষ মন্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কূটনৈতিক পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে, আর সামরিক প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।