ক্রীড়া প্রতিবেদক:
অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালে রূপ নেওয়া ম্যাচে দুর্দান্ত এক ইনিংসে ভারতকে সেমি-ফাইনালে তুললেন সঞ্জু স্যামসন। কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে রোববার ৬৭ হাজার দর্শকের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করেছে ভারত। সেমি-ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বের শেষ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ দিকে জেসন হোল্ডার (২২ বলে ৩৭*) ও রভম্যান পাওয়েল (১৯ বলে ৩৪*) পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৭৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন।
চমক হিসেবে ওপেনিংয়ে নামানো রস্টন চেজ ৪০ রান করেন। শাই হোপের ৩২ ও শিমরন হেটমায়ারের ১২ বলে ২৭ রানের ঝড়ো ইনিংস ক্যারিবীয়দের স্কোরকে চ্যালেঞ্জিং উচ্চতায় নিয়ে যায়।
ভারতের হয়ে বরুণ চক্রবর্তী ও জাসপ্রিত বুমরাহ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিলেও ফিল্ডিংয়ে ছিল হতাশা। সহজ তিনটি ক্যাচ হাতছাড়া করে স্বাগতিকরা, যার একটি ছিল চেজের—তখন তার রান ছিল মাত্র ১৫।
১৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দুই উইকেট হারায় ভারত। তবে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ওপেন করতে নেমে দায়িত্ব নেন সঞ্জু স্যামসন। দল ৪১/২ হলে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে চাপ সামাল দেন তিনি।
মাত্র ৫০ বলে ১৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৮০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। নিখুঁত টাইমিং ও আত্মবিশ্বাসী শটে গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস ছড়ান তিনি। তিলক ভার্মা ১৫ বলে ২৭ রান করে বিদায় নিলে ১৫তম ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল আরও ৫৫ রান।
এক প্রান্ত আগলে রেখে ম্যাচ শেষ করেন স্যামসন। হার্দিক পান্ডিয়া ১৭ রান করে আউট হলেও ৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ভারত। গ্যালারিজুড়ে শুরু হয় উদ্যাপন ও আতশবাজি।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত স্যামসন বলেন, “এটা আমার কাছে পুরো পৃথিবীর মতো মূল্যবান। দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখেছিলাম যেদিন থেকে, আজ মনে হচ্ছে সেই দিনেরই অপেক্ষায় ছিলাম।” তিনি জানান, ম্যাচ শেষ করার মানসিকতা শিখেছেন বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার মতো সিনিয়রদের কাছ থেকে।
এই জয়ে ভারত সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে দিনের আরেক ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে।তারা প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে নিউজিল্যান্ড-এর বিপক্ষে।
ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আহমেদাবাদে আগামী রোববার। বিশ্বকাপ স্বপ্ন ধরে রাখতে হলে এখন ভারতের সামনে ইংল্যান্ড বাধা। কলকাতার জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেই চ্যালেঞ্জে নামবে দলটি।