নিজস্ব প্রতিবেদক:
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও সাম্প্রতিক নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিরোধীদলীয় নেতা ও দলের আমির শফিকুর রহমান ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে যান।
ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছরে এই প্রথম কোনো আমিরকে শহীদ মিনারে ফুল দিতে দেখা গেল—এমন প্রেক্ষাপটে বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন বছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে দলটির সহযোগী সংগঠনগুলো শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা করলেও আমিরের সরাসরি উপস্থিতি ছিল না।
শহীদ মিনারে শফিকুর রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও আখতার হুসেইনসহ জোটের নেতারা। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সেখানে মোনাজাত পরিচালনা করেন জামায়াত আমির।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রীয় আচার হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে এটি তার দায়িত্ব। “সঙ্গীদের নিয়ে আমাকে আসতে হবে, তাই আমি এসেছি,”—বলেন তিনি।
শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া দলটির কাছে ‘নাজায়েজ’ কি না—এমন প্রশ্নে কিছুটা বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এমন একটি পবিত্র দিনে এ ধরনের প্রশ্ন না করাই ভালো।”
ভাষা শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন সময়ে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের প্রতি তারা শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে “ফ্যাসিবাদের হাতে শহীদ” এবং “জুলাইযোদ্ধা” হিসেবে উল্লেখিতদেরও স্মরণ করেন। ওসমান হাদির নামও উল্লেখ করেন তিনি।
আরেক প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলেই তাদের রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনি ফ্যাসিবাদমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দলীয় নেতাদের নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে যান জামায়াত আমির। সেখানে ভাষা শহীদদের কবরে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তারা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক বিতর্ক ও অতীত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে জামায়াতের এই উপস্থিতি দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা উসকে দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটির এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে।