শাহরিয়ার আরিফ:
বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাকে কেবল পরিবেশগত ইস্যু নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ঘোষণা করেছেন জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিল।
১২ ফেব্রুয়াীা (বৃহস্পতিবার) ইস্তাম্বুলে তুরস্কের জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী এবং কপ৩১ (COP31) এর মনোনীত প্রেসিডেন্ট মুরাত কুরুমের সাথে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্টিল জোর দিয়ে বলেন যে, আমরা এখন জলবায়ু পদক্ষেপের একটি “নতুন যুগে” প্রবেশ করছি, যা কেবল টিকে থাকার লড়াই নয়, বরং সমৃদ্ধি অর্জনের পথ।
জলবায়ু পদক্ষেপের তিন যুগ
সাইমন স্টিল তার বক্তব্যে জলবায়ু লড়াইকে তিনটি প্রধান যুগে ভাগ করেন:
১. প্রথম যুগ: যখন সমস্যাটি শনাক্ত করা হয়েছিল কিন্তু এর ভয়াবহতা নিয়ে কেবল বিতর্ক হয়েছে।
২. দ্বিতীয় যুগ: যখন প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব সমাধানের পথে হাঁটতে শুরু করে।
৩. তৃতীয় যুগ (বর্তমান): এটি হলো ‘বাস্তবায়নের যুগ’। যেখানে লক্ষ্য নির্ধারণের চেয়ে কাজ দ্রুততর করা এবং বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
”জলবায়ু পদক্ষেপ কোনো বোঝা নয়, বরং এটি আমাদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার একটি গোপন অস্ত্র,” স্টিল মন্তব্য করেন। ২০২৫ সালের অর্জন ও অগ্রগতি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ২০২৫ সালে জলবায়ু খাতে অভাবনীয় সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন তিনি:-
বিনিয়োগের রেকর্ড: পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বার্ষিক বিনিয়োগ ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা এক দশক আগের তুলনায় ১০ গুণ বেশি।
জ্বালানি রূপান্তর: কয়লাকে ছাড়িয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন বিশ্বের প্রধান বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
নির্গমন হ্রাস: প্রথমবারের মতো বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এমন জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা পেশ করেছে, যার ফলে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন কমতে শুরু করবে।
কপ৩১ (COP31) এবং তুরস্ক-অস্ট্রেলিয়া জোট
২০২৬ সালে তুরস্কের আনতালিয়া শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কপ৩১ সম্মেলনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করা হয়েছে। এই সম্মেলনটি তুরস্কের সভাপতিত্বে এবং অস্ট্রেলিয়ারnegotiation বা আলোচনার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।
আগামী দিনের প্রধান লক্ষ্যসমূহ:
২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি তিনগুণ বৃদ্ধি করা।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা।
ফসিল ফুয়েল বা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পরিকল্পিতভাবে সরে আসা।
নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি
সাইমন স্টিল সতর্ক করে বলেন, যেসব নেতা জলবায়ু পরিবর্তনকে জাতীয় নিরাপত্তার বাইরে ভাবছেন, তারা ভুল করছেন। চরম আবহাওয়া যেভাবে খাদ্য সংকট ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়াচ্ছে, তাতে জলবায়ু পদক্ষেপই এখন জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের একমাত্র পথ। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি দেশগুলোকে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট তেলের দামের অস্থিরতা থেকে রক্ষা করবে।