নিজস্ব প্রতিবেদক:
সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে এবং সন্ত্রাসবাদের কবল থেকে সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ‘সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এই আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্র (UNIC) থেকে পাঠানো মহাসচিবের এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মহাসচিব তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বর্তমানে অস্থিরতা, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং আর্থ-সামাজিক ভঙ্গুরতাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা বর্তমানে অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনিয়ন্ত্রিত গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুত মৌলবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
গুতেরেস মনে করিয়ে দেন যে, এ বছর জাতিসংঘের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কৌশলের ২০তম বার্ষিকী এবং সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনার ১০ম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে উগ্রবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়।”
সমস্যার মূলে গিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মহাসচিব বলেন: শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে।
নাগরিক পরিসর (Civic Space) বৃদ্ধি করতে হবে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ এবং পারস্পরিক আস্থা বাড়াতে হবে।
বেসরকারি খাত ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে মিলে অনলাইনে উগ্রবাদ প্রতিরোধে শক্তিশালী ‘গার্ডরেল’ তৈরি করতে হবে।
বাণীর শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সকল প্রচেষ্টা অবশ্যই মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে। একটি সহনশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের মাধ্যমেই সহিংস উগ্রবাদমুক্ত শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব।